মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
অভিনয়, লেখালেখি, নাচ ও পেইন্টিংয়ের পাশাপাশি পড়াশুনাটাও চালিয়ে গেছেন আশনা হাবিব ভাবনা। গত বুধবার ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন তিনি। এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
লন্ডনের দিনগুলো…
আমি এখন লন্ডনে। গত মঙ্গলবার এখানে পৌঁছেছি। ইংল্যান্ডের রেক্সহ্যাম গ্লাইন্ডউআর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ব্যাচেলর অব আর্টস উইথ অনার্স ইন বিজনেস’ সম্পন্ন করেছি। কনভোকেশন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই মূলত আসা। তবে থাকব বেশ কিছু দিন। ছোটবোন অনন্যাও সঙ্গে এসেছে। তার এবারই প্রথম লন্ডনে ভ্রমণ। আমার এবং তার বেশ কজন বন্ধু রয়েছে এখানে। তাদের সঙ্গে দেখা করা, ঘোরাঘুরি সবই হবে। আমি মিউজিয়াম আর আর্ট এক্সিবিশনে দেখতে সবচেয়ে ভালোবাসি। মাদাম তুসো জাদুঘরে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। দেশে ফিরব ২৬ মে।
কনভোকেশন…
অনুভূতি…
এই অনুভূতি শুধু গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার নয়। এর পেছনে অনেক গল্প আছে। আমাকে থামানোর জন্য পাশের অনেক মানুষই কত চেষ্টা করেছে। তখন কষ্ট পেয়েছি। দুদিন হয়তো কোনো কাজই করতে পারিনি। এত কাজ, মন ভাঙার কষ্ট নিয়েও হাল ছাড়িনি। নারীদের ক্ষেত্রে নিজেকে ট্রাস্ট করা খুব জরুরি। নয়তো কোনো কিছুই সে এমনি এমনি অর্জন করতে পারবে না। নিজের ইচ্ছের প্রতি স্ট্যান্ট না নিলে অন্যর পাশে দাঁড়াব কীভাবে? একজন আমার উদ্দেশ্যে ফেইসবুকে লিখেছেন, সৎ শিল্পীর সফলতা পেতে অনেক দেরি হয়। আমি তাকে উত্তর দিয়েছি, আমি সফল হতে চাই না। প্রতিদিনি শুধু সৃষ্টিশীল কাজ করে যেতে চাই।
দেশে ফিরে…
লন্ডনে যাব বলে আমার হাতে থাকা ‘দামপাড়া’ ছবিটির গানের শ্যুটিং পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করি। দেশে ফিরেই চট্টগ্রামে এই ছবির শ্যুটিং করব। এছাড়া সৈয়দ জামিল আহমেদের সঙ্গে তৃতীয় কর্মশালা শুরু করব ২৭ মে থেকে। এবার রাইটিংয়ের ওপর কর্মশালা করাবেন স্যার। তার কাছ থেকে শেখা, সান্নিধ্যে আসা আমার জীবনের পরম পাওয়া। তিনি আমার জীবন দর্শনে অনেক পরিবর্তন এনেছেন।
শ্যুটিং…
রোজার আগে বেশ কয়েকটি নাটকের কাজ করেছিলাম। সেতু আরিফের পরিচালনায় তিনটি নাটক করেছি। সহশিল্পী ছিলেন শামীম হাসান সরকার ও সোহেল মন্ডল। মীর সাব্বিরের পরিচালনায় কাজ করেছি। আরেকটি ভালো কাজ করেছি বৃন্দাবন দাসের গল্পে। সহশিল্পী ছিলেন চঞ্চল চৌধুরী। এ নাটকের নাম ‘পাল বাড়ি’। আমাকে কম বয়সে বিধবা এক নারীর চরিত্রে দেখা যাবে। যেন একটি সিনেমার শ্যুটিং করেছিলাম। যতক্ষণ কাজ শেষ না হয়, আমার ডেডিকেশনের অভাব থাকে না। কবে তা প্রচার হলো, ইউটিউবে কত ভিউ এলো, কে কী মন্তব্য করল, নাটকের গ্রুপে আলোচনা হলো কি-না, সহকর্মীরা নাটক নিয়ে মুগ্ধতার কথা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিল কি-না আমি এসব নিয়ে একদম ভাবি না। আমি আর্টিস্ট, আমার প্রধান দায়িত্ব ভালো গল্প ও চরিত্র বেছে অভিনয় করা। অভিনয় যাতে হৃদয়গ্রাহী হয় সেই চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকে না।